কেন্দুয়া উপজেলা বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ অঞ্চল। এটি ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত এবং ১৮৯০ সালে থানার মর্যাদা লাভ করে। ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
📍 অবস্থান ও সীমানা
কেন্দুয়া উপজেলার অবস্থান ২৪°৩৪´ থেকে ২৪°৪৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৪১´ থেকে ৯০°৫৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এটি উত্তরে নেত্রকোণা সদর ও আটপাড়া উপজেলা, দক্ষিণে নান্দাইল ও তাড়াইল উপজেলা, পূর্বে মদন উপজেলা এবং পশ্চিমে নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ ও গৌরীপুর উপজেলা দ্বারা পরিবেষ্টিত।
🏛️ প্রশাসনিক ইতিহাস
১৮৯০ সালে কেন্দুয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে কেন্দুয়া উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন রয়েছে, মোট ২১৭টি মৌজা ও ২৮৯টি গ্রাম নিয়ে গঠিত।
🏞️ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
কেন্দুয়া উপজেলায় রয়েছে রোয়াইলবাড়ি দুর্গ, জাফরপুর খোয়াজ মসজিদ, ধানচাপুরের কালিমন্দির, পঞ্চরত্ন মন্দির, এবং বিশালায়তন দিঘি ইত্যাদি প্রাচীন নিদর্শন। এ অঞ্চলের নদী, খাল, বিল ও হাওড়ের সমৃদ্ধতা স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
📚 শিক্ষা ও জনসংখ্যা
কেন্দুয়া উপজেলায় মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩,০৪,৭২৯ জন, যার মধ্যে পুরুষ ১,৫০,০৫৭ এবং মহিলা ১,৫৪,৬৭২ জন। শিক্ষার হার ৫৩.৪%। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৩২), আশুজিয়া জেএনসি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৬), নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮), সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় (১৯২২), বেখৈরহাটি নরেন্দ্রকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় (১৯২২), রওশন ইজদানী একাডেমি (১৯৬৫), জনতা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৫), গেন্ডা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৮), গগডা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৯), মজলিশপুর উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৩), কেন্দুয়া ডিগ্রি কলেজ (১৯৬৯) উল্লেখযোগ্য।
🌾 অর্থনীতি ও কৃষি
কেন্দুয়া উপজেলার প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি কৃষি। এখানে ধান, আলু, গম, সরিষা, তামাক, শাকসবজি ইত্যাদি প্রধান ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। এছাড়াও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন, মৎস্য চাষ ও ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।
🏥 স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো
কেন্দুয়া উপজেলায় ২টি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৩টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এনজিও যেমন ব্র্যাক, আশা, কারিতাস এখানে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
📌 উল্লেখযোগ্য স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ
- ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: মসজিদ ৩৯০টি, মন্দির ১২টি, তীর্থস্থান ২টি।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: কলেজ ৭টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২০টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৮৭টি, মাদ্রাসা ১৮টি।
- সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান: ক্লাব ২০টি, লাইব্রেরি ১টি, মহিলা সংগঠন ১টি, খেলার মাঠ ১২টি।
